নিজ দেশের বাইরে কাজ করার অভিজ্ঞতা একজন কর্মীর যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিঙ্গেল মার্কেট ব্যবস্থার কারণে সেখানকার কর্মীদের মধ্যে এ বৈশিষ্ট্য বেশ লক্ষণীয়। নিয়োগকারী প্লাটফর্ম ইনডিডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের ১৭ শতাংশ চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্তেই বিদেশের মাটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ। খবর ইউরোনিউজ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে সিঙ্গেল মার্কেট ব্যবস্থা চালু থাকায় এখানকার কর্মীরা খুব সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে কাজ করতে পারেন। এ ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের জোটভুক্ত অন্য দেশে কাজ করার জন্য কোনো আলাদা ভিসা বা কঠোর কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
ইনডিডের অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক স্নেহা পুরি এ বিষয়ে বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত ও কাজের ক্ষেত্রে কোনো কড়াকড়ি না থাকায় ওই অঞ্চলের কর্মীদের মধ্যে বিদেশে কাজের হার এত বেশি। মুক্তভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে কাজ করার সুযোগ এবং বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতাকে ক্যারিয়ারে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার কারণেই ইউরোপীয় কর্মীরা সীমানা ছাড়িয়ে যেতে উৎসাহিত হচ্ছেন।’
ইনডিডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কাজে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে সুইজারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সবার চেয়ে এগিয়ে। সুইজারল্যান্ডের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) চাকরিপ্রার্থীর বিদেশের মাটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এ হার ৪২ শতাংশ। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় দেশ দুটিতে বিদেশের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর হার অনেক বেশি।
স্নেহা পুরি জানান, আয়ারল্যান্ড বা সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে খুব অল্পসংখ্যক বিদেশী কর্মী এ দেশগুলোয় প্রবেশ করলেও শতাংশের হিসাবে তা বড়। এছাড়া দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানও এখানে বড় কারণ। সুইজারল্যান্ড হলো অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো বড় বড় শ্রমবাজারের কেন্দ্রস্থল। ফলে কর্মীরা খুব সহজেই এক দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটির প্রতি চারজন চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে একজনের (২৫ শতাংশ) বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও এ হার ২০ শতাংশের ওপরে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সেও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর হার ইউরোপীয় গড় হারের চেয়ে বেশি।
ইউরোপীয় কর্মীরা এখন শুধু নিজের মহাদেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছেন না। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কর্মীরা ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যতটা চাকরি খুঁজতেন, মহাদেশের বাইরে যাওয়ার আগ্রহও ছিল প্রায় একই রকম। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিত্রটি বদলাতে শুরু করে। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ ইউরোপের বাইরের দেশগুলোয় কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপের বাইরে কর্মসংস্থানের জন্য কর্মীদের প্রথম পছন্দ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ২০২৫ সালে ইউরোপীয়রা মহাদেশের বাইরে যে পরিমাণ চাকরি খুঁজেছেন, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবং ৩০ শতাংশ ছিল যুক্তরাজ্যের জন্য। এ দুই দেশে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন জার্মানির কর্মীরা। মূলত বড় বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করা এবং উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার আশায় ইউরোপীয়রা এখন সাগর পেরিয়ে অন্য মহাদেশে পাড়ি জমাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।